হাঁস-মুরগি প্রতিপালন

হাঁসমুরগি পালন  শিক্ষণ বার্তা

ভূমিকা

এফএফএস পোল্ট্রি মডিউলে গুরুত্বপূর্ন শিক্ষনীয় বিষয়সমূহ;

.      বাসস্থান ব্যবস্থাপনা

.       বাচ্চাকে মামুরগি থেকে আলাদা করন

.        হাজল তৈরি ব্যবহার

.      টিকাদান

.      মোমবাতির সাহায্যে ডিম পরীক্ষা

.      খাদ্য ব্যবস্থাপনা

.      তথ্য সংরক্ষণ

.     নেটওয়ার্কিং

 ওয়েব পেইজে  বর্ণিত তথ্যগুলো উন্নত পদ্ধতিতে হাঁসমুরগি পালনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন যা কৃষক মাঠ স্কুলে অংশগ্রহনকারী সদস্যদের  জ্ঞান দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে আপনি আপনার আশে পাশে অন্যান্য চাষীদের মধ্যে তা সম্প্রসারণ করতে পারেন 

হাঁসমুরগি পালনের জন্য সঠিক বাসস্থান ব্যবহার করুন

 

. হাঁসমুরগির আরামদায়ক অবস্থানবৃষ্টি বাদল এবং অন্যান্য ক্ষতিকর প্রাণির হাত থেকে থেকে রক্ষা করার জন্য উন্নত বাসস্থান প্রয়োজন 

 

. আলোবাতাস সম্পন্ন বাসস্থান হাঁসমুরগির জন্য অত্যন্ত উপযোগি প্রয়োজনে দরজা এবং জানালা মেটালের তার দিয়ে তৈরি করতে পারেন

. নিয়মিত হাঁসমুরগির বাসস্থান পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন এবং উন্নত বাসস্থানে এই কাজটি সহজে করা যায়

 

. বাসস্থানটি একটি ছায়াযুক্ত স্থানে রাখা ভাল যাতে এটি অধিক সূর্যের আলো থেকে রক্ষা পায় 

 

. আপনি যদি দুতলা ঘর বানান তাহলে অল্প জায়গায় অধিক হাঁসমুরগি পালন করতে পারবেন প্রত্যেক তলা .৭৫ ফিট উচ্চতা সম্পন্ন হওয়া ভালো

 

. ঘরের প্রতি তলায় দুই থেকে তিনটি কোপ তৈরি করতে পারেন তাহলে বড় মুরগি এবং ছোট মুরগি আলাদা আলাদা রাখতে পারবেন 

 

. বাসস্থান কত বড় হবে তা র্নিভর করবে হাঁসমুরগির সংখ্যার উপর

১৫২০টি বড় মুরগি এবং ৪০৫০টি ছোট মুরগি পালনের জন্য

. ফিট দৈর্ঘ্য, ৪ফিট প্রস্থ এবং প্রতি তলা  .৭৫ ফিট উচ্চতা সম্পন্ন বাসস্থান তৈরি করা প্রয়োজন

 

হাঁস-মুরগির বাসস্থান

উমে বসা মুরগির জন্য হাজল ব্যবহার করুন

হাজলে উমে বসে মুরগি

১.  উমে বসা মুরগি সহজে বাই্র গিয়ে খাবার এবং পানি গ্রহন করতে চায় না। ফলে উমে বসা অবস্থায় ওজন কমতে থাকে।

২.  হাজল ব্যবহার করলে মুরগি হাজলে বসে একই সময়ে খাবার এবং পানি গ্রহন করতে পারে।

৩.  হাজল মুরগিকে সুস্থ এবং শারীরিকভাবে সবল রাখতে সাহায্য করে। পরবর্তীতে মুরগি সঠিকভাবে বাচ্চার যত্ন  নিতে পারে।

ফোটার এক সপ্তাহ পর মা মুরগি থেকে বাচ্চা আলাদা করুন

 

.      মা মুরগি বাচ্চা ফোটার পর বেশি দিন বাচ্চার সাথে থাকলে পুনরায় ডিম দিতে বেশি সময় নেয়

.     মা এবং বাচ্চা মুরগিকে একসপ্তাহ এক সাথে থাকার পর আলাদা করে দিন এতে মুরগি তাড়াতাড়ি আবার ডিম পাড়া শুরু করবে

.     বাচ্চাকে নিরাপদ রাখার জন্য মুরগির ঘরের একটি কক্ষে রাখুন

৪.    আপনি যদি বাচ্চা এক সপ্তাহের মধ্যে আলাদা করে দেন তাহলে মুরগি বছরে ২-৩ বারের জায়গায় ৫-৬ বার ডিম পাড়বে যা  ডিমের উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করবে।

ফোটার পর মা এবং বাচ্চাকে একসাথে একসপ্তাহ রাখুন

এক সপ্তাহ পর মা থেকে বাচ্চা আলাদা করে নিরাপদ জায়গায় রাখুন

হাঁসমুরগিকে নিয়মিত টিকা দিন

হাঁসমুরগি নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে কিছু কিছু রোগ আছে যা হাঁসমুরগির মৃত্যু ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়

গুরুত্বপূর্ন রোগসমূহ: রানীক্ষেত রোগ, ফাউল ফক্স এবং ফাউল কলেরা

সময়মত টিকাদান হাঁসমুরগি এবং বাচ্চাকে রোগ থেকে রক্ষা করে

আপনার আশে পাশে অবস্থানকারী টিকাদানকারীর সাথে যোগাযোগ করুন

মুরগিকে টিকা দেওয়া হচ্ছে।

কমিউনিটি পোল্ট্রি ওয়ার্কার হাসকে টিকা দিচ্ছে

মোমবাতি/টর্চের  আলোয় ডিম পরীক্ষা

১. উমে বসানো ডিম সবগুলো বাচ্চা উৎপাদনের উপযুক্ত নাও হতে পারে

. মোমবাতি অথবা টর্চ লাইট ব্যবহার করে অনুর্বর ডিম বাচাই করা যায়

. উমে বসানোর পাঁচ দিন পর টর্চ লাইট বা মোমবাতির আলোয় আপনি বাচ্চা ফোটার উপযুক্ত ডিম সনাক্ত করতে পারবেন 

. পরীক্ষার পর ভাল ডিম রেখে অনুর্বর ডিম সরিয়ে নিন যা পরবর্তীতে খাওয়া অথবা বিক্রি করা যেতে পারে 

টর্চের আলোয় ডিমের উর্বরতা পরীক্ষা

মুরগি এবং মুরগির বাচ্চাকে সুষম খাবার দিন

সুষম খাবার মুরগি এবং বাচ্চাকে সঠিকভাবে বাড়তে সহযোগিতা করে

প্রতিদিন মুরগিকে ৫০৬০ গ্রাম সুষম খাবার দিন বাচ্চা প্রতিদিন প্রয়োজনীয় অনুযায়ী যত খুশি খাবার খেতে পারে

আপনি নিজেই বাড়িতে সুষম খাবার তৈরি করতে পারেন;

১.      চালের কুড়া

২.       চাল ভাংগা

৩.      শুটকি মাছ

৪.      মাছ কুটার পর ফেলে দেওয়া অংশ

৫.      মাছ ডিমের খোসা ভাংগা

৬.      শামুক ভাংগা 

৭.      সবুজ ঘাস

এই উপাদানগুলো কৃষক বাড়ি থেকেই সংগ্রহ করবে পারে

বাজারে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত মুরগি মুরগির বাচ্চার খাবার পাওয়া যায় বাড়িতে তৈরি করা খাবারের চেয়ে বাজারের খাবারে দাম অনেক বেশি তবে বানিজ্যিক খাবারেসব সবগুলো খাদ্য উপাদান সঠিক মাত্রায় থাকে

 হাঁস-মুরগির খাদ্য তৈরির কিছু উপাদান

হিসাব সংরক্ষণ

মুরগির পালনে সঠিক আয় ব্যয়ের হিসাব রাখা প্রয়োজন থেকে মুরগি পালনে থেকে কত টাকা মুনাফা অর্জিত হয়েছে তা বুঝা যায় একটি নোট বুকে নি¤œ লিখিত তথ্যগুলো লিখে রাখুন ;

হাঁসমুরগি পালন সম্পর্কিত ব্যয়

–           বাসস্থান ব্যয়

–           হাজল তৈরির ব্যয়

–           মুরগির বাচ্চা/হাঁসের বাচ্চার দাম

–           সম্পূরক খাদ্যের দাম

–           টিকাদান খরচ

–           পরিবহন খরচ

–           অন্যান্য

১. পরিবারে ডিম খাওয়ার পরিমাণ এবং এর আর্থিক মূল্য (টাকা)

২. পরিবারে হাঁসমুরগি খাওয়ার পরিমাণ এবং এর আর্থিক মূল্য (টাকা)

৩. ডিম বিক্রির পরিমাণ এবং থেকে অর্জিত আয় (টাকা)

৪. হাঁসমুরগি বিক্রির পরিমাণ এবং থেকে অর্জিত আয় (টাকা)

কয়েক মাসের হিসাব থেকে হাঁসমুরগি পালন থেকে নীট মুনাফার একটি চিত্র পাওয়া যাবে

হাঁস-মুরগি পালনে আয়-ব্যয় হিসাব সংরক্ষন করুন

তথ্য সংগ্রহ সরবরাহ

আপনার অর্জিত জ্ঞান পাড়া প্রতিবেশি এবং বন্ধুদের সাথে বিনিময় করুন

হাঁসমুরগি পালনে সেবাদানকারী ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহে রাখুন;

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা/চিকিৎসক নাম এবং মোবাইল নাম্বার

 

এফএফএসসহায়তাকারী/রির্সোস ফার্মার/সংযোগ চাষী নাম এবং মোবাইল নাম্বার

 

কমিউিনিটি পোল্ট্রি ওয়ার্কার /সিল নাম এবং মোবাইল নাম্বার

 

মুরগির বাচ্চা /হাঁসের বাচ্চা সরবরাহকারী নাম এবং মোবাইল নাম্বার

 

খাদ্য বিক্রেতার নাম এবং মোবাইল নাম্বার

 

হাঁস-মুরগি ক্রেতার নাম এবং মোবাইল নাম্বার